স্বামীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ইংরেজবাজার পুরসভায় এলাকায় মহেশপুর বাগানপাড়ায় ঘটেছে এই ঘটনা। সোমবার রাতে অগ্নিদগ্ধ সোনা মন্ডলের (৩৬) দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে ইংরেজবাজার থানার পুলিস। এলাকাবাসীর অভিযোগ শুক্রবার রাতে মদ খেয়ে বাড়িতে আসে সোনা মন্ডল। স্ত্রী গায়েত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয়। তারপরই কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় ক্ষিপ্ত স্ত্রী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
অভিযুক্ত স্ত্রী গায়েত্রী মণ্ডল জানায়, প্রায় ১২ বছর হয়েছে তাদের বিয়ে হয়েছে। এরপর প্রায় সাত বছর ধরে প্রায় দিন তাদের মধ্যে অশান্তি হত গায়েত্রীর কাজে যাওয়া নিয়ে। তার উপর অত্যাচার করা হত। তার স্বামী তাকে সন্দেহ করত সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। এই নিয়ে প্রায় দিন তাদের মধ্যে ঝগড়া অশান্তি লেগে থাকত। আর সেই অশান্তির জন্য বাড়ির জিনিস পত্র ভাঙতে থাকে। এদিন সেই অশান্তি চরমে ওঠে। সোনা মণ্ডল দুটি মদের বোতল নিয়ে বাড়িতে ঢোকে। এরপর সে মাংস রান্না করে। তারপর আবার তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। গায়েত্রী মণ্ডল বলে মদ খেতে খেতে তার স্বামী সোনা মণ্ডল আবার বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে আর বলে সে আজ বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে। এরপর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। তারপর তার স্বামী তাকে বাঁশ দিয়ে মারতে উঠলে তার প্রতিবেশীরা তাকে বাঁচায়। এরপর সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে চলে যায় তার দিদির বাড়ি ও মেম্বারের বাড়ি। সে জানায় স্বামী মৃত্যুর ঘটনায় তার কোন হাত নেই তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
মৃত সোনা মণ্ডলের মেয়ে অপর্না মণ্ডল জানায়, বাবা আর মা যখন ঝগড়া করছিল তখন বাবা টিভি ভেঙে দেয়। এরপর মা রেগে গিয়ে বাবা কে ঘরে থাকা একটি চেয়ার দিয়ে আঘাত করে।
মৃত সোনা মণ্ডলের বৌদি জানায়, ঘটনাটি আমার শ্বশুর মশায় দেখতে পান। তিনি দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়িতে আমাদের কে ডাকতে যায়। তারা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সোনাকে বাঁচাতে গেলে সোনার স্ত্রী গায়েত্রী তাদেরকে বাধা দেয়। তারপর সোনার ছেলে ঘর থেকে বেড়িয়ে সবাইকে বলে তার মা বাবার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধড়িয়ে দিয়েছে। এরপরে শুক্রবার রাত ১২ টা নাগাদ হাসপাতালে মৃত্যু হয় সোনা মণ্ডলের।
প্রতিবেশী পলি মণ্ডল জানায়, আমরা কিছু দেখেনি তবে,সোনার ছেলে কে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় মা বাবার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধড়িয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে যায়। সকলেই বলে গায়েত্রীর অবৈধ সম্পর্ক আছে। সেই কারনে তাদের পরিবারে প্রায় দিন অশান্তি লেগে থাকত। সোনা প্রথমে রিকসা চালাত এখন সে টোটো চালায়। সে তার স্ত্রীকে প্রায় দিন নাকি বলত আমি যা টাকা উপার্জন করি তাতে আমাদের সংসার চলে যাবে তোমাকে বাইরে যেতে হবে না। আর তুমি যদি অন্য কাউকে প্রেম কর তাহলে তার সাথে থাকো এই বাড়ি থেকে চলে যাও। এই সমস্ত কিছু নিয়ে তাদের সংসারে প্রায় দিন ঝরগা অশান্তি হতো।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/-37XxgoY5MI