এবছরের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি সুগন্ধী গোলাপের সঙ্গে নিতান্ত সাদামাঠা ধুতরা ফুলের এক অলিখিত প্রতিযোগিতা। কারণ এবছর “ভালোবাসার দিন” আর “শিবরাত্রি” একই দিনে। অর্থাৎ ভালোবাসার সোহাগ ভরা ক্ষন বনাম দাম্পত্যজীবনের খিটমিটে একটা মুহূর্তকে বেছে নেওয়ার পালা। অনেকটা "শেষের কবিতা"র ঘড়ার জল বনাম দিঘীর জলের তত্ব। প্রাকবিবাহ ভালোবাসায় যে পথ শেষই হতেই চায় না বিবাহিত সম্পর্কে সে পথ শুরু হতে না হতেই পৌঁছে যায় কানা গলিতে। ভালোবাসার দিনে লাল গোলাপ, চকলেট, ধৈর্যহীন প্রতিক্ষায় বারেবারে হাতঘড়িতে তাকানো, মন নিয়ে পাশাপাশি বসার জন্য নিভৃতস্থানের সুলুকসন্ধান, কাঁপাকাঁপা হাতে স্পর্শের অতীন্দ্রিয় অনুভূতি, কিন্তু বিবাহিত জীবনে এই অনুভূতির অন্তর্জলী যাত্রা কীভাবে ঘটে হামেশায়? তার উপর শিবঠাকুরের মতো এমন হাভাতে এক বর! নেই সিক্স প্যাক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের ডিগ্রী, বছরে আকর্ষণীয় স্যালারী কিম্বা বিদেশ ট্যুরের হাতছানি। তবে শিবের উপাসনা করে কী লাভ? বর চাই? সেতো ভূতের রাজাও দিতে পারত। অবশ্য এই শ্রমজীবী ভূতেদেরই তো বস শিবঠাকুর। সর্বহারার প্রতীক বলেই মনে হয়। খালি গা, কম চাহিদা, সারাদিন কাজ সেরে গাঁজার কল্কেয় সুখটান। দিনশেষের মানুষেরা তাতেই তো নতুন জীবন খোঁজে। আপেল নয়, বেল আর বেলপাতাতেই তুষ্ট। সহজ সরল জীবনই যার পরিচয়। সংসারে থাকতে গেলে এসব মানিয়ে চলতে চাই আমরাও। তবুও লাল গোলাপের পাপড়ি কেন ঝড়ে পড়ে, গলে পড়ে চকলেটের মায়াবী স্বাদ? পথিক তুমি কী পথ হারাইছো? না, আসলে গোলাপ আর ধুতরা এক হয়ে যায়। ফিরুন না একটু আগে, যেখানে হাত ধরে বলতেন, “আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি”। প্রিয় মানুষটাকে পাওয়ার অমোঘ আশায় কাটিয়েছেন রাতের পর রাত। আজ নিজের সাহসে জেগে উঠুন। বলুন “তুমি রবে নীরবে”। লাল আর সাদা মিশে যাক। প্রিয়বন্ধুর হাতটি ধরে একবার বলেই ফেলুন “জানি বন্ধু জানি তোমার আছে দুহাত খানি”। প্রেমিকা বা স্ত্রী ভালোভাসার একটাই নাম-ভ্যালেন্টাইনস ডে বা শিবরাত্রি।
গোলাপ বা ধুতরার চাহিদা সম্পর্কে ফুলবিক্রেতা ত্রিপ্ত সাহানি জানালেন, ভ্যালেন্টাইনস ডে বা শিবরাত্রি একি দিনে। যারা শিবরাত্রি করেছে, তারা গোলাপও কিনছে। ধুতরার চাইতে গোলাপে চাহিদাই বেশি।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/MF8z-2nLI7w
মালদা