মালদা

প্রতিবন্ধী মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় জর্জরিত পিতা

নেই পেটে খাবার। নেই তা জোগাড় করার সামর্থ্য। কারন তার হাত ও পা অকেজ। যদিও মনের জোড়কে হাতিয়ার করেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে ওই ছাত্র।  নাম ইন্তাজুল ইসলাম, বাড়ি কালিয়াচক-৩ নং ব্লকের চরি অনন্তপুরের সুবেদার পাড়া এলাকায়। চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সে গোলাপগঞ্জ হাই স্কুলের ছাত্র। মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে গয়েশ্বরী প্যারি ভূষণ বিদ্যানিকেতনে। যদিও বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। তাই বাবা তাফাজুল মিঞা ও দাদার কাঁধে ভর করে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছতে হচ্ছে। তারপর বাবা দাদার কাঁধে ভর করে উপর তলায় থাকা নিজ কক্ষে কোন মতে পৌচাচ্ছে। হাতে কোন মতে পেন ধরে যে টুকু পড়েছে তাই লিখে চলেছে ইন্তাজুল।

        এবিষয়ে ক্যামেরার সামনে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পরীক্ষার্থী ইন্তাজুল ইসলাম। সে জানায়, তার বাবা এক জন দিনমজুর। যেদিন বাবা কাজে যায় সেদিন তার আহার জোটে। যে দিন যায়না সেদিন অনাহারেই কাঁদতে কাঁদতে দিন যাপন করতে হয় তাকে। এই দারিদ্রতার মাঝে সে বড় হয়ে উঠেছে। কিন্তু তার নিজের কিছুই করার নেই। টিউশান পড়ার মতো খরচ নেই। যদিও কেউ পড়াতে চায় তার যাওয়ার সামর্থ নেই। তাই নিজে যে টুকু পড়েছে তাতেই পরীক্ষায় বসেছে সে। তাই তার আক্ষেপ, উপর ওয়ালা কেন তাকে এমন বানাল। কেনই বা তাকে হত-দরিদ্র পরিবারে জন্ম দিল। এতটা আমি অসহায়।

        এদিকে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাবা তাফাজুল মিঞা প্রশাসনের কাছে দাবী জানান, ছেলের যেন সুব্যবস্থা করে দেয়। পঞ্চায়েতে হ্যান্ডিক্যাপ সার্টিফিকেট দিয়ে ভাতার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কিছুই হয়নি। কোন সাহায্য পায়নি। তাই ছেলে জীবন কাটাতে পারে এমন কাজ প্রশাসনের কাছে দাবী করেন।

        এদিন গয়েশ্বরী প্যারি ভূষণ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক সৌরভ মৈত্র জানান, ইন্তাজুল ইসলাম হ্যান্ডিক্যাপ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসন তাদের জন্য ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে ওই পরীক্ষার্থীর সাফল্য কামনা করি।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/z_dlqVslEyU