উত্তরদিনাজপুর

কালিয়াগঞ্জের নাট্যমন্দির ময়দানে পালন করা হল হোলিকা দহন উৎসব

হোলিকা দহন উৎসব পালন করা হলো নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে বুধবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের নাট্যমন্দির ময়দানে। বহু মানুষ এই হোলিকা উৎসব উপলক্ষে নাট্যমন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন । এদিন হোলিকার পূজো করে এই উৎসব উদযাপন করেন উপস্থিত সকলে। খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্ন্যুসবের আয়োজন করা হয়। এই বহ্ন্যুৎসব হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া নামে পরিচিত। এদিনে এই হোলিকা দহন উৎসবকে ঘিরে বহু মানুষের সমাবেশ ঘটে নাট্যমন্দির প্রাঙ্গণে।

        উল্লেখিত বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপিনীর সঙ্গে রঙ খেলায় মেতে ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়। হোলি নামটা এসেছে "হোলিকা" থেকে। দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা। প্রচণ্ড নিষ্ঠুর ছিল দুই ভাইবোন। হিরণ্যকশিপু অপরাজেয় থাকার বর পেয়েছিল। তাই কোনও দেবতাকেই মানত না। বলত দেবতা নয়, পুজো তাকেই করতে হবে। কিন্তু হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত। সে তার বাবার আদেশ মানতে রাজি নয়। হিরণ্যকশিপু ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ভাবে ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেও,কোন ফল হয় নি। শেষে প্রহ্লাদকে ভুলিয়ে ভালিয়ে জ্বলন্ত চিতায় বসায় হোলিকা। নিজে গায়ে দিল অগ্নি-নিরোধক শাল। কিন্তু আগুন জ্বলে উঠতেই সেই শাল উড়ে গিয়ে প্রহ্লাদকে ঢেকে ফেল। অগ্নিদগ্ধ হয় হোলিকা। বিষ্ণুর আগমন ঘটে। তাঁর হাতে নিহত হয় হিরণ্যকশিপু। ওই আগুন হল অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়ের প্রতীক। হোলিকা দগ্ধ হওয়ার পরের দিন পালিত হয় হোলি। তাই সেদিনের পর থেকে প্রতি দোল পূর্ণিমার দিনে হোলিকা নামক পরম শক্তিশালী দৈত্যের পরাজয় ও আগুনে পুড়ে যাওয়া হলিকার ধংসস্তুপের ছাই মেখে অসুরদের আক্রমণ থেকে নিস্তার ও মুক্তির পরম আনন্দে প্রতিবছর দোল পূর্ণিমার আগের রাতে এই হোলিকা দহন উৎসব পালিত হয় ।এই আনন্দ অনুসরন করে বধ করার পর সকলে আনন্দ করে। এই অন্যায় শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহাআনন্দে পরিণত হয়। অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুর বধের আনন্দ কালক্রমে মহা আনন্দে পরিনত হয়। দোল বা হলি অনুষ্ঠানে নানান রঙের ছাই মেখে মনের অসুরকে বধ করে ইন্দ্রীয় দমনের অভ্যাস বা প্রতিজ্ঞা পালন আর হিন্দু বা ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক উৎসবে পরিনত হয়। এ যেন হিংসা বিদ্বেষ, জাতি, ধর্ম ও বর্ণবাদের ঊর্ধে উঠার প্রক্রিয়া ও সভ্যতার উৎস।