মালদা

অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে বের হল চামচ, লোহার রড ও সুচ, শুক্রবার বিরল অস্ত্রোপচারের সাক্ষী রইল মালদা মেডিক্যাল কলেজ

রোগীর পেটে অস্ত্রোপচার করে বের হল চামচ, লোহার রড ও সুচ। শুক্রবার বিরল এই অস্ত্রোপচার হয়ে গেল মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারের পর ওই যুবক এখন সুস্থ রয়েছে বলে খবর।

        জানা যায়, একুশ বছর বয়সি তরুণকুমার রবিদাসের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকায়। কিছুদিন আগে ওই যুবক মালদার হবিবপুর থানার আগ্রা-‌হরিশ্চন্দ্রপুরে তার দিদির বাড়ি বেড়াতে আসে। গত বুধবার দিদির বাড়িতেই হঠাৎ রক্ত-‌বমি শুরু হয় ওই যুবকের। এরপর তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখাতে নিয়ে আসেন তাঁর জামাইবাবু গৌতম রবিদাস। বহির্বিভাগে তাঁকে দেখেন চিকিৎসক অতিশ হালদার। পরীক্ষার পর জানা যায়, তরুণকুমার রবিদাসের পেটে রয়েছে স্টিলের চামচ, লোহার রড আর সুচ। এরপর ওই রোগীকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতেল ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। সার্জেন অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫ জনের চিকিৎসক দল শুক্রবার সকালে তরুণকুমার রবিদাসের অস্ত্রোপচার করে পাকস্থলি এবং মলদ্বার থেকে বের করেন একটি স্টিলের ভাঙা চামচ, একটি লোহার রড এবং একটি বাঁকানো সুচ। তরুণের জামাইবাবু গৌতম রবিদাস এদিন বলেন,‘‌আমার বাড়িতে বেরাতে এসেছিল। সম্পর্কে আমার শ্যালক। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। বুধবার বাড়িতে হঠাতই রক্ত-‌বমি করে শ্যালক। এরপর ওকে আমরা মালদা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসি। সেখানেই জানা যায় তাঁর শরীরে চামচ, লোহার রড, সুচ আটকে রয়েছে। শুক্রবার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে সব বের করে দিয়েছেন। 

        এই অস্ত্রোপচার করার পর মালদা মেডিক্যাল কলেজের সার্জেন অরিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন,‘‌ এই ধরণের অস্ত্রোপচার মালদায় কখনও হয়নি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সুচকান্ডের পর মালদা মেডিক্যাল কলেজে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। শরীরের মধ্যে এতগুলি জনিস নিয়ে এই রোগী কী করে ছিল, সেটাই আমাদের অবাক করেছে। আসলে ওই রোগী মানসিক ভারসাম্যহীন। এটা বিরল অস্ত্রোপচার। আরও ৪ জন চিকিৎসক ছিলেন অস্ত্রোপচারের সময়। তাঁরা হলেন ডাঃ সন্দীপন দাস, ডাঃ অতিশ হালদার, ডাঃ পৃতম সরকার এবং ডাঃ অভিষেক মন্ডল। 

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/WqMQ48CbS_Q