উত্তরদিনাজপুর

মনোনয়ন পত্র তোলাকে কেন্দ্র করে তৃনমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে ব্যাপক গুলি ও বোমাবাজিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রায়গঞ্জে

মনোনয়ন পত্র তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াল তৃনমূল ও বিজেপি। বুধবার সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরে। শাসক দলের সন্ত্রাসে মনোনয়ন পত্র তুলতে ও জমা দিতে পারছে না বিরোধী দল বিজেপি। এমনই অভিযোগ তুলে প্রথমে রায়গঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। বিজেপির অভিযোগ, বুধবার বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা রায়গঞ্জ ব্লক অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গেলে তাঁদের প্রার্থী সহ মহিলা কর্মীদের উপর মারধর ও খারাপ ব্যবহার করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডাবাহিনী বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে পথ অবরোধ শুরু করে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দেড় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় পথ অবরোধ চলার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবশেষে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দামের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পড়ে আবার মনোনয়ন পত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় বিজেপি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে করে বোমা ও গুলি চালায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর চালানো হলো  হাসপাতাল সংলগ্ন বিজেপির দলীয় কার্যালয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় রায়গঞ্জ শহরে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় রায়গঞ্জ থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কমব্যাট ফোর্স। ফের পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ শহরে চলল বোমা ও গুলি। যার কারণে দুষ্কৃতীদের তান্ডবে রীতিমতন আতঙ্কিত এলাকাবাসী থেকে ভোটার সকলেই।

        এবিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দামের অভিযোগ, তাদের দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়েছিল রায়গঞ্জ ব্লক অফিসে। সেই সময় তাদের প্রার্থী সহ মহিলা কর্মী ও নেতা দের সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহার করে তৃণমূলের বেশ কিছু দুষ্কৃতী। যার প্রতিবাদে তারা পথ অবরোধ করেন। পরে পুনরায় শতাধিক কর্মী সমর্থককে নিয়ে এদিন রায়গঞ্জ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে মনোনয়ন পত্র জমা ও তুলতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের প্রচুর সংখ্যায় দুষ্কৃতী বোমা ও গুলি নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। এলোপাথাড়ি গুলি ও বোমা ছুড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। ভাংচুর করা হয় হাসপাতাল এলাকার বিজেপির কার্যালয়।

        যদিও বিজেপির এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করছেন রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, এটা একটি গল্প। গল্পে গণতান্ত্রিক সচেতন মানুষ পা দেন না, রায়গঞ্জে এমন ঘটনা কখন ঘটেনি, তাদের উন্নয়ন দেখে বিজেপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তবে পুলিশের উচিত দোষীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া। তবে প্রথমে রায়গঞ্জে বোমাবাজীর ঘটনাটি সম্পুর্ন ভাবে অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করে নেন। সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেন বামফ্রন্টের আমলে দিনের বেলায় আমরা এমন অত্যাচার দেখেছিলাম, তারই পুনরাবৃত্তি এদিন দেখলেন।

        যদিও ক্যামেরা মিথ্যে কথা বলে না, কারন ছবিতেই ধরা পড়েছে বিজেপির অভিযোগ কতটা সত্য। তবে রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের কথায় বামফ্রন্টের আমলে দিনের বেলায় তারা এমন অত্যাচার দেখেছিলেন, তারই পুনরাবৃত্তি তৃণমূলের আমলে এবার দেখল রায়গঞ্জ বাসী। সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু রাজ্যের পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এমনটাই মনে করছেন রায়গঞ্জ সহ সারা রাজ্যের মানুষ।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/r_JHEZjEZVs