মধ্যযুগীয় বর্বরতার নজির দেখা গেল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের বানিয়াপুকুর গ্রামে।চলাচলের রাস্তা তৈরির জন্য জমি দিতে না চাওয়ায় একঘরে করে রাখা হলো এক পরিবারকে। গ্রামের দোকান বাজার থেকে কোনও সামগ্রী কিনতে না দেওয়া থেকে শুরু করে গ্রামের টিউবওয়েল থেকে পানীয় জল ব্যাবহার করতে না দেওয়া, এমনকি গ্রামে কারও সাথে কথা বলা যাবেনা এমন সব ফরমান জারি করেছে গ্রাম্যসমাজ। ফলে আজ প্রায় পনেরো দিন ধরে সামাজিক বয়কটের শিকার হয়ে চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন রায়গঞ্জ শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে বানিয়াপুকুর গ্রামের বাসিন্দা জব্বর আলি। স্থানীয় বীরঘই গ্রামপঞ্চায়েত, রায়গঞ্জ থানা এমনকি উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন জব্বর আলি, কিন্তু কোনও সুরাহা পাননি। অপরদিকে যেহেতু গ্রামের রাস্তা নির্মানের জন্য জায়গা না দেওয়ায় গ্রামের সব মানুষই এক চেটিয়া হয়ে আছেন।
রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য তথা স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের দাবি, জব্বর এর পরিবার সমাজের কথা মানেনি তাই তাদেরকে সমাজ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের বীরঘই গ্রামপঞ্চায়েতের বানিয়াপুকুর গ্রামের বাসিন্দা জব্বর আলির বাড়ির পাশ দিয়েই ছিল গ্রামের সর্বসাধারনের যাওয়া আসার রাস্তা। সেই কাঁচা রাস্তাকে সিমেন্টের পাকা রাস্তা করার জন্য উদ্যোগ নেয় স্থানীয় পঞ্চায়েত। রাস্তা চওড়া করার জন্য জব্বর আলির কিছু জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু জমি দিতে রাজী নয় সে। এরপর বানিয়াপুকুর গ্রামের সব বাসিন্দা একজোট হয়ে সালিশি সভা বসায়। সেই সালিশি সভায় জব্বর আলিকেও ডাকা হয়েছিল। সেখানেও তাকে রাস্তার জন্য জায়গা দিতে বলায় অস্বীকার করে জব্বর আলি। এরপর গ্রাম্যসমাজ সিদ্ধান্ত নেয় জব্বরের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে একঘরে রাখার। এরপর গ্রামের বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে থেকে একপ্রকার জোড় করেই
পঞ্চায়েতের মাধ্যমে তৈরি করে সিমেন্টের ঢালাই রাস্তা। একদিকে গ্রামের তথাকথিত সমাজ রাস্তাও তৈরি করে পাশাপাশি একঘরে করে রাখে জব্বর আলির পরিবারকে।
গত ১৪ অক্টোবর গ্রাম্যসমাজের সালিশি সভায় এই সিদ্ধান্তের পরদিন থেকে ফরমান জারি হয় জব্বর আলির পরিবারের উপর। একঘরে হয়ে থাকা জব্বর বলেন, আমার বাবা অসুস্থ্য ওষুধ কিনতে পারছিনা, গ্রামের টিউবওয়েল ব্যাবহার করতে না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়ির আয়রনযুক্ত জলপান করতে হচ্ছে আমাদের। কোনও দোকানদার জিনিস বিক্রি করছেনা আমাদের। এমনকি গ্রামের কারও সাথে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছেনা, কথা বললে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছে গ্রামসমাজ। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ পরিবারের পনেরো জন সদস্য চরম সমস্যায় দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে রায়গঞ্জ থানায় লিখিতভাবে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি আমাদের। গতকাল উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসকের কাছে সুরাহার জন্য আবেদন করে এসেছি " বলে জানান তারা।
এদিকে গ্রামসমাজের পক্ষে রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, " ওদের কে নিয়ে আলোচনায় বসে গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ওই রাস্তা পাকা করতে চেয়েছিলাম। জব্বর আলি জায়গা দেয়নি বরং গ্রামের মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করেছে। তাই গ্রামসমাজ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সামাজিক বয়কট
করেছে "।