কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে ছিলেন উন্নয়নের কাজ নিয়ে কোন রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি টাকা নয় ছয় করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেড করতে হবে। এই নির্দেশের পরেও নিম্ন মানের কাজ করা ও সরকারি টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ উঠলো এক ঠিকাদারী সংস্থার বিরুদ্ধে। বর্ডার এড়িয়া ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে তৈরী হচ্ছে সীমান্ত এলাকায় গ্রামের রাস্তা-ঘাট। কিন্তু এই প্রজেক্ট নিয়ে শুরু হয়েছে ভয়ঙ্কর দূর্নীতি। নিম্ন মানের কাজ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে বেশ কিছুদিন থেকে অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা। এবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থার বিরুদ্ধে সরোব হলেন এলাকার সাংসদ মৌশম বেনজির নুর। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন জেলা শাসকের কাছে।
মালদা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শিরসী কলাইবাড়ি গ্রাম রয়েছে। এই এলাকায় কলাইবাড়ি,শিরসী, অনুরাধাপুর সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের মানুষ এই এলাকায় বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ২০ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি এলাকার সাংসদ মৌসম নুরের প্রচেষ্টায় ২০কিলোমিটার পিচ রাস্তা নির্মানের জন্য বর্ডার এড়িয়া ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের অন্তর্গত প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই মতো কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ কাজের বরাদ পাওয়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থা ব্যাপক নিম্ন মানের কাজ করছে। মাটির উপরেই পিচ ফেলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। যা হাট দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সিডিউল মেনে কাজ করা হচ্ছে না। এমনি কাজ হয়েছে রাস্তার ওপর দেওয়া পিচ হাত দিয়ে সরানো যাচ্ছে। বার বার এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানালেও কোন লাভ হয়নি। এই ভাবে যদি কাজ চলতে থাকে তাহলে কিছুদিনের মধ্যে রাস্তা পুনরায় আদের মতোই হয়ে যাবে।
এদিকে এলাকার এক ছাত্রী শ্রেয়া চৌধুরী বলেন, রাস্তা খুব খারাপ, রাস্তা ভালো হলে ভালো হয়, কিন্তু রাস্তা খারাপ থাকায় মাঝে মধ্যেই পথ দুর্ঘটনা হতে থাকে।
এই বিষয়ে এক গাড়ির চালক সুভাস রায় জানান, যা কাজ হচ্ছে, তাতে রাস্তা বেশি দিন টিকবে বলে মনে হয়না। যা পরে উঠে গিয়ে গাড়ির টায়ার নষ্ট করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গ্রামবাসীদের এই অভিযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঠিকাদার সংস্থার এক কর্মী রাকেশ দাস দাবী করেন তারা কোন খারাপ ম্যাটেরিয়াল দিচ্ছেননা। তাদের লুকোনর কিছুই নেই। তবে এই রাস্তাটি রপিয়ারিং করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি।
গোটা বিষয়টি নিয়ে সরোব হয়েছেন এলাকার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। তিনি বলেন, আমারই উদ্যোগে এই রাস্তা নির্মানের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। অবিলম্বে এই ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ করেছি। এই ভাবে সরকারি টাকা নয়ছয় বরদাস্ত করা হবে না।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/edPkeVWa4nI