জল ছাড়া প্রানীর বেঁচে থাকা সম্ভব না। তাই তো জলের অপর নাম জীবন। শহর পেড়িয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে এবার অভিনব পরিকল্পনা নিল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ৪ নাম্বার বোচাডাঙ্গা গ্রামপঞ্চায়েত। সেই মোতাবেক পঞ্চায়েত ভবন চত্বরেই একটি অভিনব বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য একটি বটেলিং প্লান্ট তৈরী করা হয়েছে। যার ফলে আগামী দিনে সেই প্লান্ট এর মাধ্যমে গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্টীর মহিলাদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি পানিয় জল পৌছে যাবে। বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরীর প্রক্রিয়া শেষ হলে কুড়ি লিটার জারের মাধ্যেমে সেই জল পৌচ্ছে যাবে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে। তবে সেই জল বাড়িতে বাড়িতে পৌছানোর দায়িত্বে থাকবে বোচাডাঙ্গা গ্রামের স্বনির্ভর মহিলা দলের মহিলারা। গ্রামে গিয়ে জানা যায় কালিয়াগঞ্জ ব্লকের বোচাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে যেগুলি গ্রাম রয়েছে সেগুলির প্রায় প্রতিটি টিউবলে প্রচুর পরিমানে আর্সেনিক রয়েছে। তাও এতদিন গ্রামবাসীদের বাধ্য হয়ে সেই জল পান করতে হত। তাই প্রায় সময় লেগেই থাকত গ্রামে আসুখ বিসুখ। আবার গরমের দিনে প্রচন্ড পরিমানে জল কষ্ট দেখা দিত। সব মিলিয়ে খুবই নাজেহাল অবস্থায় গ্রামবাসীদের দিন যাপন করতে হত। পরর্বতিতে গ্রামের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্দ্যেগে অভিনব এক পানীয় জলের বাটেলিং প্ল্যান্ট তৈরীর পরিকল্পনা তৈরী করা হয়। অবশেষে সেই কাজ শুরু হওয়ায় খুশি গ্রামের মানুষরা।
বোচাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মানিক সরকার জানা্ন, ৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত ভবন চত্তরে এইকাজ চলছে দ্রুততার সঙ্গে। আগামী দিনে কাজ শেষ হলে গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা মিটে যাবে বলে জানান। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশির ভাগ জায়গায় পানীয় জলের টিউবল আছে তার বেশীর ভাগটা দিয়ে আর্সেনিক যুক্ত জল বেড় হয়, ফলে সেই জলপান করতে ভীষন অসুবিধা হত এতদিন কিন্তু সেই সমস্যা অচিরে দূত হতে হতে চলায় তারাও ভীষণ খুশি। তিনি বলেন যে ব্যাটেলিং প্ল্যান্ট এর মাধ্যেমে এখানে বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরী হবে, সেই জল কুড়ি লিটারের জারে করে গ্রামের স্বনিভর গোষ্টীর মহিলারা এই জল বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়ার জন্য গ্রামপঞ্চায়েত থেকে পারিশ্রমিক পাবেন ফলে সব মিলিয়ে মহিলারাও আরো স্বনির্ভর দিকে এগিয়ে যাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রধান আরো বলেন এই কুড়ি লিটার এর বিশুদ্ধ পানীয়জল এর জন্য সমান্য কিছু টাকা নেওয়া হবে। এদিকে গ্রাম পঞ্চায়েত মাধ্যমে এই কাজ হতে চলায় খুশী গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্টীর মহিলারা।
স্বনির্ভর গোষ্টীর এক সদস্যা প্রতিমা সরকার জানান, তারা আজ খুশী যে একদিকে তাদের মাধ্যেমে গ্রামবাসীরা বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবে অপর দিকে তারাও গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কিছু পারিশ্রমিক বাবদ পাবেন ফলে তারা আগামী দিনে অনেকটা উন্নতির পথে এগোতে পারবেন বলে
আশাবাদী তারা। এদিকে গ্রামের লোকেরা পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগকে ভালো বলেছেন। কারণ তাঁদের এলাকায় জলে প্রচুর পরিমানে আয়রন রয়েছে, তার সাথে সাথে গ্রীষ্মকালে জলের অভাব দেখা দেয়। এই জল চালু হলে তারা আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল খেতে পারবে। সমাজকে সুস্থ-সবল করার লক্ষ্য এই প্রয়াস বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/PiGHAhIQcy0