বন্য ও ভাঙন মালদা জেলার নিত্যদিনের সমস্যা। গত বছরও বন্যা ও ভাঙনে মালদা জেলার বেশীর ভাগ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বছর নতুন পদ্ধতিতে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করলো রাজ্য সরকার। একশো দিনের কাজের মাধ্যমে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে পুরাতন মালদার মুচিয়া অঞ্চলের টাঙন নদী এলাকায়। এখানকার ভাঙন কবলিত এলাকায় নদীর ধারে লাগানো হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ ঘাস। যার নাম ভেটিভার। যা মূল মাটির নীচে ৮—১০মিটার ভেতরে চলে যাবে। যার ফলে ভাঙন অনেকটাই কমে যাবে।
ভাটিভার ঘাসের দ্বারা ভাঙন প্রতিরোধ করতে এবার উদ্যোগী হল পুরাতন মালদা ব্লক প্রশাসন। গত বছরের বন্যায় পুরাতন মালদার মুচিয়া অঞ্চলের বিধান নগর গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি টাঙন নদীর গর্ভে তলিয়ে যায়। সেই সময় থেকে এলাকার বেশ কিছু বাড়ি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরে আসন্ন বন্যার হাত থেকে এই সকল বাড়ি গুলিকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে এবার উদ্যোগী হল পুরাতন মালদা ব্লক প্রশাসন। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীন কর্ম নিশ্চয়তা প্রকল্পের অন্তর্গত এই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়। ব্লক প্রশাসনের তরফে জানা যায়, ভেটিভার নামক এক প্রকার ঘাস দিয়ে এই ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি মুড়ে ফেলা হবে। যাতে নদীর আগ্রাসনের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা যায়। শুক্রবার এই ভাঙন কবলিত এলাকার কাজ পরিদর্শনে যান পুরাতন মালদার বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস। খুটিয়ে দেখেন ভাঙন প্রতিরোধের কাজ। যদিও এই কাজে খুশি নন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের দাবী এই কাজে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। যদিও বিডিও-র কথা মেনে ভেটিভার ঘাসের দ্বারা ভাঙন প্রতিরোধের কাজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীরা।
পরিদর্শন শেষে বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস জানান, এতদিন বোল্ডার ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলতো। কিন্তু এবার ভেটিভার ঘাস লাগিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করার কাজ শুরু হয়েছে। এই ঘাসের বিশেষত্ব হচ্ছে, এর শিকড় জমির অনেক ভেতরে প্রবেশ করে। যার কারনে নদী মাটি কাটতে পারেনা। ফলে ভাঙন অনেকটাই কমে যায়। ব্লকের অন্যান্য ভাঙন কবলিত এলাকা গুলিতেও আগামীতে এমন ভাবেই ভাঙন প্রতিরোধ করা হবে বলে তিনি জানান। তবে এই নতুন পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয় তা আগামী বর্ষার মরশুমে বোঝা যাবে। যদিও পুরাতন মালদার বিডিও নরত্তম বিশ্বাসের দাবি এই পদ্ধতিতে সুফল মিলবে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/OFndsscb-nk